Ads here
রিপোর্টার
প্রকাশ : Jan 30, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো হামলার জবাব দৃঢ় ও তাৎক্ষণিক হবে: ইরানি সেনাবাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হামলার জবাব হবে দৃঢ়, দ্রুত ও তাৎক্ষণিক হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, ‘শত্রু যদি আবারও বোকামি করে ভুল হিসাব করে, তবে তার জবাব দেওয়া হবে তাৎক্ষণিকভাবে, কোনো বিলম্ব ছাড়াই।’ খবর আনাদোলুর। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য হামলার হুমকি এবং পারস্য উপসাগরের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বহর মোতায়েনের পর এমন হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করল ইরানের সেনাবাহিনী। আকরামিনিয়া বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি একটি স্পষ্ট ধারা অনুসরণ করে আসছে, যার মধ্যে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন এবং ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ।’ তিনি একে হাইব্রিড যুদ্ধের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

গত বছরের জুনে ইসরাইলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘর্ষের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সক্ষমতা সম্পর্কে ভুল মূল্যায়ন করেছিল। বিশ্ব দেখেছে, জায়নবাদী শাসনের সামরিক হামলার জবাবে আমরা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছি। অস্থিরতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি, বরং জাতীয় ঐক্য আরও দৃঢ় হয়েছে এবং আমেরিকানরা তাদের জবাব পেয়েছে।’

আকরামিনিয়া জোর দিয়ে বলেন, ‘ভবিষ্যতে কোনো হামলা হলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সঙ্গে সঙ্গে এবং বাস্তব সময়েই জবাব দেবে। ১২ দিনের যুদ্ধ আমাদের শিখিয়েছে, শত্রুকে সময় দেয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’‘গানবোট’ কূটনীতি ও আঞ্চলিক প্রস্তুতি ইরানি সেনা মুখপাত্র অভিযোগ করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ১৮ ও ১৯ শতকের মতো ‘গানবোট কূটনীতি’ অনুসরণ করছে এবং চাপ প্রয়োগ করে ছাড় আদায়ের চেষ্টা করছে। তারা শূন্য মাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার ওপর বিধিনিষেধ চায়।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে না দিয়ে আকরামিনিয়া সতর্ক করে বলেন, ‘ইরানের জবাব যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কাম্য নাও হতে পারে। এই অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো আধা-ভারী অস্ত্র, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় রয়েছে এবং সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে পুরো অঞ্চলই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের পাল্লায় থাকবে।’

ইরানের প্রস্তুতির মাত্রা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, ‘গত বছরের যুদ্ধ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মেরামত বা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, নতুন ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে এবং বিমানবাহিনীতে নতুন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। স্থল, নৌ ও বিমানবাহিনী সবই এখন উচ্চ মাত্রার প্রস্তুতিতে রয়েছে।’

পারস্য উপসাগরে মার্কিন নৌবহরের উপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আধুনিক যুদ্ধে যুদ্ধজাহাজ গুরুত্বপূর্ণ হলেও সামরিক শক্তি কেবল নৌবহরেই সীমাবদ্ধ নয়। এই এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার কাছে ঝুঁকিপূর্ণ।’


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

চট্টগ্রাম বন্দরে বিদেশি ব্যবস্থাপনা কেন প্রয়োজন, জানালেন নৌপ

1

বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতেই থাকতে হবে? সোনাক্ষীর বক্তব্যে যা বললে

2

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কলেজ ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

3

ভারতের যেকোনো উসকানির জবাব দৃঢ়ভাবে দেবে পাকিস্তান: শাহবাজ শর

4

অনলাইন ভ্যাট রিফান্ড চালু করল এনবিআর

5

স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে যাচ্ছেন খালেদা জিয়া

6

লন্ডন থেকে ফিরেই হাদিকে দেখতে গেলেন জামায়াত আমির

7

সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে প্রশংসনীয় করেছে

8

ভূমিকম্পে রাজধানীর কোন এলাকা নিরাপদ?

9

ঢাকায় আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেন

10

ভূমিকম্প মোকাবিলায় নতুন পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

11

দেশের মাটিতে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন রানে অলআউট অস্ট্রেলিয়া

12

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সংঘাত ঠেকাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে তুরস্ক

13

নির্বাচন নিয়ে জামায়াত মিথ্যা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে: মির্

14

দেশের সব বিভাগে বৃষ্টির আভাস

15

আয়ারল্যান্ড বিপক্ষে টসে হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে আছেন

16

৫০ শতাংশ সেনা সদস্য সরিয়ে নেওয়ার তথ্য গুজব: স্বরাষ্ট্র উপদেষ

17

সংবিধান সংস্কার পরিষদ: শপথবাক্যে কী আছে?

18

গুঞ্জনের মাঝেই জন্মদিনে আরশকে ‘ভালোবাসা’ জানালেন সুনেরাহ

19

কোহলিকে ছাড়িয়ে শীর্ষে বাবর আজম

20