আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানকে নিয়ে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় একটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক প্রাণহানির নতুন তথ্য সামনে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৫ হাজার ৮৪৮ জন নিহত হয়েছেন। সংস্থাটি বলছে, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও কয়েক গুণ বেশি হতে পারে। কারণ, দেশজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে অর্থনৈতিক সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। জানুয়ারির শুরু থেকে তা সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। কয়েক দিন ধরে বড় বড় শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নামেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, সরকার নজিরবিহীন ক্ষমতা ব্যবহার করে বিক্ষোভ দমন করেছে। নিরাপত্তা বাহিনী সরাসরি জনতার ওপর গুলি চালিয়েছে। টানা ১৮ দিন ধরে ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়, যা ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরীসহ একটি নৌবহর পাঠিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, নৌবহরটি বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই বলেছিলেন, প্রয়োজনে বড় ধরনের সামরিক শক্তি পাঠানো হবে। এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, যেকোনো হামলার জবাবে তারা ‘ব্যাপক ও অনুতাপজনক’ প্রতিক্রিয়া জানাবে। ইরান দাবি করেছে, নিজেদের সক্ষমতার ওপর তারা পুরোপুরি আস্থাশীল।
মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ চলাকালে অন্তত ৪১ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে ইরান সরকার বলছে, নিহত হয়েছেন ৩ হাজার ১১৭ জন। তাদের দাবি, অধিকাংশই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বা সহিংসতায় নিহত সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন