Ads here
রিপোর্টার
প্রকাশ : Feb 9, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

আস্থার সংকটে মাস্কাট বৈঠক: সরাসরি আলাপেও গলল না ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের বরফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ওমানের মাস্কাটে অনুষ্ঠিত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের আলোচনা কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারলেও, খাদের কিনারে থাকা কূটনীতিকে নতুন করে অক্সিজেন দিয়েছে। 

গত শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি ছিল গত বছরের জুন মাসে ইরানি পারমাণবিক কেন্দ্রে মার্কিন-ইসরাইলি হামলার পর দুই দেশের মধ্যে প্রথম সরাসরি ও উচ্চপর্যায়ের সংযোগ। যদিও দুপক্ষই তাদের নিজ নিজ অবস্থানে অনড় ছিল—ইরান চেয়েছে কেবল পারমাণবিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে, আর যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিষয়কেও অন্তর্ভুক্ত করতে—তথাপি পরবর্তী বৈঠকের ব্যাপারে একমত হওয়াকে একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মাস্কাটের এই আলোচনার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল আলোচনার টেবিলে সামরিক উপস্থিতির ছায়া। মার্কিন প্রতিনিধি দলে প্রথমবারের মতো ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার পূর্ণ সামরিক পোশাকে উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার ঠিক কয়েকদিন আগেই আরব সাগরে অবস্থানরত মার্কিন রণতরি ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’-এর দিকে ধেয়ে আসা একটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করে মার্কিন বাহিনী। 

তেহরানের মতে, হুমকির মুখে এই কূটনীতি একটি ‘আল্টিমেটাম’ ছাড়া আর কিছু নয়। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই বৈঠককে ‘খুব ভালো’ বলে অভিহিত করেছেন এবং দাবি করেছেন যে ইরান চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে আছে, কারণ এর অন্যথা হলে ফল হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। আলোচনার পেছনের সারিতে ওমানি মধ্যস্থতাকারীদের বাইরেও মিশর, তুরস্ক এবং কাতার একটি ফ্রেমওয়ার্ক প্রস্তাব করেছে বলে জানা গেছে।এই প্রস্তাব অনুযায়ী ইরানকে তিন বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখা এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। 

যদিও ইরান এই প্রস্তাবগুলো নাকচ করে দিয়েছে, তবে একটি বড় পরিবর্তন দেখা গেছে স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের সাথে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সরাসরি সাক্ষাতের মাধ্যমে। দীর্ঘদিনের পরোক্ষ আলোচনার প্রথা ভেঙে এই সরাসরি যোগাযোগ ইঙ্গিত দেয় যে দুই পক্ষই বার্গেনিংয়ের ক্ষেত্রে আরও কারিগরি ও গভীর স্তরে যেতে চাইছে।

তবে আস্থার সংকট এখনো এই আলোচনার সবচেয়ে বড় বাধা। ওমান বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি তেলের ব্যবসার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, যা তেহরানের কাছে আলোচনার আন্তরিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। 

আগামী কয়েক সপ্তাহ নির্ধারণ করবে এই মাস্কাট ডায়লগ কি আসলেই কোনো টেকসই চুক্তির ভিত্তি স্থাপন করল, নাকি এটি কেবল বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আগে কিছুটা সময় কেনা। আস্থার শূন্যতা এবং সামরিক চাপ থাকা সত্ত্বেও দুই পক্ষই যে পুনরায় বসতে রাজি হয়েছে, সেটিই আপাতত মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির ভূ-রাজনীতিতে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মাদুরোর বিচার করতে হলে ভেনেজুয়েলায় করা উচিত, যুক্তরাষ্ট্রে

1

সূর্যবংশীকে প্রশংসায় ভাসালেন পোলার্ড

2

ঢাকার ২০ আসনে জয়ী হলেন যারা

3

জামায়াতের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন, কোন পদে কে

4

বিপিএল নিলামে সর্বোচ্চ দাম পাওয়া ১০ ক্রিকেটার

5

সামরিক সহযোগিতা জোরদার করছে সৌদি-কুয়েত

6

এবার ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন, লাখো মানুষকে সরাল ফিলিপাইন

7

রমজানের পণ্য আমদানি: এলসি খোলা নিয়ে যে বার্তা দিলো বাংলাদেশ

8

মুম্বাই থেকে ফিরেই রাহুলের বাড়িতে জিৎ

9

অভিনেত্রী শিরীনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ জিতু

10

দুবাই বিমানবন্দরে আংশিকভাবে বিমান চলাচল শুরু

11

দেশজুড়ে তার কোটি কোটি সন্তান : কনকচাঁপা

12

সালমানের পর বিষ্ণোই গ্যাংয়ের টার্গেটে আরেক জনপ্রিয় সংগীতশিল্

13

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা শুরু হচ্ছে ১ জানুয়ারি

14

৪১তম টেস্ট সেঞ্চুরিতে পন্টিংয়ের যে রেকর্ডে ভাগ বসালেন রুট

15

অস্ত্র সমর্পণ করতে রাজি গাজা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী?

16

সেঞ্চুরি না হলে তো একটা আফসোস থাকে: সাদমান

17

ঢাকা-৯ / দুই কেন্দ্রে এগিয়ে ধানের শীষ, তৃতীয় তাসনীম জারা

18

এনরিকের সঙ্গে ‘আজীবন চুক্তি’র কথা ভাবছে পিএসজি

19

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থে

20